Online Earn, Tech Live BD: ফ্রীল্যান্সিং
Showing posts with label ফ্রীল্যান্সিং. Show all posts
Showing posts with label ফ্রীল্যান্সিং. Show all posts

Saturday, August 20, 2016

সহজে অনলাইনে কাজ পাওয়ার কিছু কৌশল

সহজে অনলাইনে কাজ পাওয়ার কিছু কৌশল। ইন্টারনেটে আউটসোর্সিংয়ের কাজ দেওয়া-নেওয়ার ওয়েবসাইট (অনলাইন মার্কেটপ্লেস)। মুক্ত পেশাজীবীরা (ফ্রিল্যান্সার) এসব সাইট থেকে কাজ নিয়ে থাকেন। কিছু কৌশল জানা থাকলে কাজ পাওয়াটা হয় সহজ।


  • কেউ কেউ আছেন, যাঁরা চার-পাঁচটা কাজের (জব) জন্য আবেদন করেই কাজ পেয়ে যান। আবার কেউ কেউ আছেন, যাঁরা ১০০টা আবেদন করেও পান না। এটা অনেকটা নির্ভর করে আপনি কত কম অর্থে (ডলার) কাজটি করে দেওয়ার জন্য আবেদন করেছেন তার ওপর।
  • যেসব বায়ারের পেমেন্ট মেথড ভেরিফায়েড না, তাদের কাজে আবেদন করবেন না। কারণ, কোনো কনট্রাক্টরকে ভাড়া করতে হলে বায়ারের পেমেন্ট মেথড ভেরিফায়েড হতে হয়।
  • কোনো একটা কাজ দেওয়ার পর যত তাড়াতাড়ি সেটিতে আবেদন করবেন ততই ভালো। তবে আবেদন করার সময় কাভার লেটারটি এমনভাবে লিখবেন, যেন বায়ার বুঝতে পারে আপনি কাজটির বর্ণনা পড়েছেন এবং তা করতে পারবেন।
  • আপনি যত বেশি মার্কেটপ্লেসে থাকবেন, ততই আপনার কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা। কারণ, কিছু কিছু কাজ আছে যেগুলো মার্কেটপ্লেসে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে (এক-দুই ঘণ্টার মধ্যে) সম্পন্ন করে জমা দিতে হয়। যেমন ফেসবুকে বা অন্য কোনো সাইটে ভোট দেওয়া এবং কিছু ভোট সংগ্রহ করে দেওয়া বা হঠাৎ করে কোন ওয়েবসাইটে সমস্যা হয়েছে, তা ঠিক করে দেওয়া ইত্যাদি। কাজেই শুরুতে বেশি সময় অনলাইনে থাকার চেষ্টা করুন, যাতে বায়ার আপনাকে কোনো বার্তা পাঠালে সঙ্গে সঙ্গেই আপনি তার জবাব দিতে পারেন। তাহলে বায়ার বুঝতে পারবে, আপনি কাজের প্রতি আন্তরিক।
  • অনলাইন মার্কেটপ্লেসে দেখবেন, প্রতি মিনিটে নতুন নতুন কাজ দেওয়া হচ্ছে, সেগুলোতে আবেদন করুন। যেসব কাজে কোনো কনট্রাক্টরের ইন্টারভিউ নেওয়া হয়েছে, সেসবে আবেদন না করাই ভালো।
  • যেসব কাজে শর্ত দেওয়া রয়েছে, আর সেগুলো যদি আপনি পূরণ করতে না পারেন, তবে সেসব কাজে আবেদন না করাই ভালো। যেমন Feedback Score: At least 4.00 এবং oDesk Hours: At least 100 hour।
  • যাঁরা ওডেস্কে দু-তিনটা কাজ করেছেন, এখন বেশি ডলার দাম ধরে আবেদন করতে চান, তাঁরা যে কাজের জন্য আবেদন করবেন, তার নিচে দেখুন বায়ারের আগের কাজগুলোর তালিকা দেওয়া আছে। সেখানে যদি দেখেন, বায়ার তার আগের কাজগুলোতে বেশি ডলার দিয়ে অন্য কনট্রাক্টরকে কাজ দিয়েছিল, তবে বেশি ডলার হারে আবেদন করতে পারেন।

Friday, September 18, 2015

ফ্রিলেন্সিং থেকে যেভাবে ভালো আয় করবেন ।

আপনার যদি কোন কাজের স্কিল থেকে থাকে তাহলে ফ্রীল্যান্সিং করে আপনি প্রচুর অর্থ আয় করতে পারবেন। তবে ফ্রীল্যান্সিং সোনার হরিণেরর সঠিক প্রয়োগ না করতে জানলে আপনার অর্থ প্রাপ্তি অধরাই থেকে যাবে। ফ্রীল্যান্সিং করতে হলে আপনাকে অবশ্যই কিছু বিশেষ দিক খেয়াল রাখতে হবে। অনেকেই আছেন যারা ফ্রীল্যান্সিং করতে চাচ্ছেন বা করছেন কিন্তু আশা-অনুরুপ ফল পাচ্ছেন না। তাঁদের জন্য ফ্রীল্যান্স হেল্পলাইনে আজকে কিছু টিপস দেয়া হল।

আপনি যদি ফ্রীল্যান্সিং করে অর্থ আয় করতে চান তাহলে আপনাকে যা যা করতে হবেঃ

  • প্রচুর প্রোজেক্টে বিড করুণঃ আপনি যত বেশী বিড করবেন তত বেশী কাজ পাবার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে। এটা ঠিক আপনি এক সাথে সব কাজ করতে পারবেন না তবে আপনি এ ক্ষেত্রে ওই সব কাজ আগে করবেন যে সব কাজে টাকা বেশী। আপনি যদি সঠিক ও বেশী দামের কাজ না পান তাহলে আপনার বিড করা চালিয়ে যান। এভাবে চালিয়ে গেলে আপনার কাজ পাবার সম্ভাবনাও বাড়বে সাথে ভালো মূল্যের কাজও বেছে নিতে পারবেন।
  • প্রোফাইলে আপনার জানা কাজের স্কিল সংযুক্ত করুণঃ ফ্রীল্যান্সিং জগতে কাজ করা যথেষ্ট প্রতিযোগিতা মূলক। এখানে ক্লায়েন্ট চায় ভালো স্কিলের এমপ্লয়ী। যার স্কিল যত ভালো তাঁর কাজ পাবার সম্ভাবনাও ততো বেশী। সুতরাং আপনার স্কিল বাড়ান। (যদি আপনার কাজ জানা থাকে না জানলে সংশ্লিষ্ট কাজ শিখে নিতে পারেন।)
  • ফ্রীল্যান্সিং এর জন্য বেশী বেশী সময় রাখুনঃ আপনি বেশী টাকা আয় করতে চাইলে অবশ্যই আপনাকে বেশী সময় ব্যায় করতে হবে। আপনি যদি দৈনিক ৫ ঘন্টা ফ্রীল্যান্সিং করতে রাখেন একবার ভেবে দেখুন অন্য আরেকজন ১০ ঘন্টা ব্যায় করে আপনার থেকে স্বাভাবিকভাবে বেশী অর্থ আয় করবে। তাই আপনার আয় সর্বচ্চো করতে চাইলে আপনাকে অবশ্যই সময় দিতেই হবে।
  • ক্লায়েন্টের সাথে সম্পর্ক সাবধানতার সাথে বজায় রাখুনঃ ক্লায়েন্টের সাথে সু-সম্পর্ক ফ্রীল্যান্সিং এ অর্থ আয়ের সম্ভাবনা বহুগুন বাড়িয়ে দেয়। কারণ আপনি যদি আপনার ক্লায়েন্টের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে ঠিক ঠাক ভাবে কাজ করে যান তাহলে ওই ক্লায়েন্ট তাঁর পরবর্তী কাজের জন্য আপনাকে অফার করবে এ ক্ষেত্রে বিড করে কাজ পেতে হচ্ছেনা আপনাকে কাজ আপনার হাতের কাছেই থাকছে।
  • একটি গ্রুপ বা দল তৈরি করুণঃ এটা এমন একটি পদ্ধতি যার মাধ্যমে আপনি আপনার ফ্রীল্যান্সিং কাজ থেকে অর্থ আয় অনেক বেশী করতে পারেন। এ পদ্ধতিতে আপনি আপনার ক্লায়েন্ট থেকে কাজ নিয়ে আপনার দলের সবার মাঝে ভাগ করে দিতে পারেন, কাজ শেষে কাজটি আপনার ক্লায়েন্টকে বুঝিয়ে দিতে পারেন। এতে আপনার সময় ও কাজ বেশী করার সম্ভাবনা বেড়ে গেলো।

আপনি কি ফ্রিল্যানসিং করার স্বপ্ন দেখেন?


আপনি যদি ফ্রিল্যান্সিং করার স্বপ্ন দেখে থাকেন (ঘুমে নয় বাস্তবে) তাহলে এই টিউনটি  আপনার জন্য। টিউনটি পড়ার পর আপনি বুঝতে পারবেন ফ্রিল্যান্সিং আপনার জন্য সুট করবে কি করবেনা। যদি সুট করে তাহলে টিউনটি ফলো করে এগিয়ে যান আর নয়তো এখানেই থেমে যান। স্বপ্ন দেখা বন্ধ করে অন্য কাজে মনোযোগ দিন।
আউটসোর্সিং বা ফ্রিল্যান্সিং কি?
এমন কাজ যা কিছু ব্যক্তির দ্বারা সম্পন্ন করা হয় যারা একাডেমিক মৌলিক জ্ঞান অর্জন করার পর টেকনোলজিতে কোন একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে বিশেষভাবে দক্ষ হওয়ার পর ঘরে বা ইচ্ছেমত পৃথিবীর যেকোন জায়গাতে বসে কম্পিউটার ও ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে অন্য কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাজ করে দিয়ে অর্থ আয় করার প্রক্রিয়াই আউটসোর্সিং বা ফ্রিল্যান্সিং। সহজভাবে, ঘরে বসে অন্যের কাজ করে দিয়ে অর্থ উপার্জন করার প্রক্রিয়াই ফ্রিল্যান্সিং।
আপনার কি কি যোগ্যতা লাগবে ফ্রিল্যান্সিং করতে
মিডিয়াম লেভেলের ইংরেজি জানতে হবে, মিনিমাম ইংরেজি আর্টিকেল পড়ে বুঝার এবং নিজ থেকে কিছু বলার বা লিখার ক্ষমতা রাখতে হবে, না হয় কঠোর সাধনা করে অর্জন করতে হবে।
কম্পিউটার ও টেকনোলজি সম্পর্কে প্রাথমিক জ্ঞান থাকতে হবে। যেমন: অপারেটিং সিস্টেমস, পিসি সেট-আপ, ট্রাবলশুটিং, সফটওয়্যার ইন্সটেলেসান, মাইক্রোসপ্ট অফিস, ইন্টারনেট ইত্যাদি।
নির্দিষ্ট কোন একটি প্রোগ্রামে দক্ষ হতে হবে। সেটা হতে পারে ওয়েব ডেভলপমেন্ট, ওয়েব ডিজাইন, গ্রাফিক্স ডিজাইন, প্রোগ্রামিং, এস.ই.ও, আর্টিকেল রাইর্টি, থ্রীডি এনিমেশন বা অন্য কোন মার্কেট ডিমান্ডেবল প্রোগ্রাম।
ধৈর্য্যের উপর ধৈর্য্য থাকতে হবে। কাজ শিখার জন্য সঠিকভাবে এগিয়ে গেলে সময় লাগবে মিনিমাম এক বছর। কাজে প্রফেশনালিজম আসতে ও কাজ করে হ্যান্ডসাম আয় করতে আরো এক বছর ধৈর্য্য ধারণ করতে হবে। এটা মনে রাখবেন সফল কেউ এক বছরেও হতে পারে কেউবা ৫ বছরে। এটা চাকুরী বলেন, ব্যবসা বলেন বা প্রবাস, সবক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
উপরের চারটি যোগ্যতা যদি আপনার থাকে তাহলে আপনার স্বপ্ন বাস্তব হওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র। আমার পরবর্তী লিখা ফলো করুন আর স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে যেতে থাকেন। আর যদি যোগ্যতাগুলো না থাকে তাহলে প্রথমে এগুলো অর্জন করুন তারপর স্বপ্ন দেখুন। আর যদি অর্জন করতে না পারেন বা পারবেন না বলে মনে হয় তাহলে অন্য কাজ দেখুন। আপনাকে দিয়ে আর যাই হোক ফ্রিল্যান্সিং হবে না। এখানে আপনার জন্য ব্যর্থতা ছাড়া আর কিছুই নেই।
যদি উপরের গুণাবলিগুলো আপনার থাকে তাহলে... সংগ্রহ করুন...
একটা কম্পিউটার ইন্টারনেট সংযোগসহ (মিনিমাম ডুয়েল কোর, কোর আই থ্রী বা তার উপরে হলে ভাল হয়)।
নিরিবিলি প্রাইভেট রোম (যেখানে ২৪ ঘন্টা কাজ করা যায়, কেউ ডিস্টার্ব করবে না এমন)।
কিছু টাকা যাতে মিনিমাম ছয় মাস চলা যায় কোন টেনশন ছাড়া।
যে সব সাইটে সাইন আপ করতে হবে...
upwork.com
envato.com
অন্যান্য
এ ছাড়া আরো অনেক সাইট আছে যেগুলিতে সাইন আপ করে কাজের জন্য বিড় করা যায় বা নিজের দক্ষতাকে বিক্রি করা যায় তবে আমি যেগুলো নিয়ে কাজ করিনা বা ভালভাবে জানিনা সেগুলো নিয়ে কিছু বলব না।
upwork:
প্রথমে সাইন-আপ করে নিন। সবকিছু দিয়ে প্রোফাইল ১০০% করুন। সবকিছু সঠিক তথ্য দিন। সবচেয়ে ভাল হয় যদি আপনি যে কাজে দক্ষ সে কাজে দক্ষ এমন কারো প্রোফাইল দেখে নিজেরটা নিজে তৈরি করুন। কোনভাবেই কপি পেষ্ট করবেন না। পরীক্ষা দিয়ে নিজের দক্ষতা প্রমাণ করুন। নিজের তৈরি করা সেম্পল কাজগুলো পোর্টপোলিও হিসেবে যোগ করুন। এখন আস্তে আস্তে কাজে বিড করুন। কাজের বর্ণনা পড়ে যে কাজটা আপনি পারবেন বলে মনে হয় কেবলমাত্র সেটাতেই বিড করুন।

Thursday, September 3, 2015

অনলাইন মার্কেটে শুধু বিড করে যাচ্ছেন কিন্তু কাজ পাচ্ছেন না? তাহলে এদিকে আসেন, দেখি সমস্যা কোথায়! বদলে ফেলুন নিজেকে।

$20 in FREE Clicks for everyone from BidVertiser - Click Here!
http://techlivebd.blogspot.com/
আমরা অনেকেই বিভিন্ন মাধ্যমে ফ্রীল্যান্সিং এর জন্য কাজ শিখেছি। অনেকেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কোর্স করে কাজ শিখেছি আবার অনেকে বিভিন্ন বাংলা টিউটোরিয়াল এর মাধ্যমেও কাজ শিখেছি। কিন্তু যারা বিভিন্ন মাধ্যম থেকে ফ্রীল্যান্সিং বা অনলাইনে কাজ করার জন্য কাজ শিখে থাকেন তাদের মধ্যে অনেককেই বলতে শুনা যায় যে, আমি তো খালি বিডই করে যাচ্ছি কিন্তু কাজ তো পাচ্ছি না।   আবার একই জায়গা থেকে কাজ শিখে কেউ কেউ ১-২ সপ্তাহের মধ্যেই কাজ পেয়ে যান। আবার নতুনদের মধ্যে অনেকেই কাজ না পেয়ে হতাশ হয়ে বলে থাকেন, এখন আর নতুনরা নাকি কাজ পায় না।

কিন্তু বাস্তবতাটা কি?

নতুনদের মধ্যে কাজ না পাওয়ার হতাশা যতখানি রয়েছে তার থেকে কয়েক গুন বেশি হতাশা দেখা যায় ক্লাইন্টদের মধ্যে। আপনি কাজ না পেয়ে যতটা না বেশি হতাশ তার থেকে অনেক গুণ বেশি হতাশ এই মার্কেটপ্লেস গুলোর ক্লাইন্ট, কারন তারা দক্ষ কর্মী খুজে পায় না। কথাটা হয়ত আজব মনে হবে কিন্তু এটাই বাস্তবতা এবং এর সাক্ষী আমি নিজে। এই কিছুদিন আগেই একটা একটু ব্যতিক্রমধর্মী এক কাজের জন্য ওয়ার্কার খুজতে গিয়ে আমি ৩ বার ফ্রীল্যান্সার.কম এ জব টিউন করি, কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় ১ জন উপযুক্ত লোক ও খুজে পাই নি কাজের জন্য। তাহলে এখন আপনি কিভাবে বলবেন যে, মার্কেটপ্লেস গুলোতে কাজ পাওয়া যায় না?

তাহলে কি করব?

প্রথেমেই নিজেকে জিজ্ঞেস করুন আপনি কতটুকু শিখেছেন? কত দিন ধরে চেস্টা করেছেন? একটু ভাবুন তো, বাস্তব জীবনে ২০-২৫ হাজার টাকার একটা চাকরী করার জন্য আমরা ২০-৩০ বছর বইয়ের বোঝা বহন করে দিন রাত পরিশ্রম করেও শেষমেশ ক্যারিয়ার অনিশ্চয়তায় ভূগি, আর তাহলে ইন্টারনেট থেকে মাসে ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা আর করার জন্য আপনি কি ৬ মাস কস্ট করতে প্রস্তুত নন? এখন আবার অনেকেই হাসবেন, যে, মাত্র ৬ মাসে ৫০ হাজার টাকা মাসে আয় করব? এইটা কি ছেলে খেলা নাকি, কিন্তু এটাই সত্য। আপনি যদি ৬ মাস ভাল করে পরিশ্রম করতে পারেন তাহলে অবশ্যই ৬ মাস পরে আপনি মাসে ৫০ হাজার+ আয় করতে পারবেন। তাহলে এবার ভাবুন, আপনি কি নিজেকে ওই রকম দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলতে পেরেছেন?

আপনাদের কিছু মানসিকতা এবং আমাদের কিছু অভিজ্ঞতাঃ

অনলাইনে লিখালিখি, আইটি বাড়ি ইত্যাদির বদৌলতে আপনাদের সাথে কাজ করতে গিয়ে বেশ কিছু অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হয়েছে আমাদের। সেখান থেকেই কিছু অভিজ্ঞতা তুলে ধরলাম।

আমাদের মধ্যে সবচাইতে বেশি যে প্রবণতাটি দেখা যায় সেটি হচ্ছে, অল্প শিখে বেশি আয় করার চিন্তা। আমাদের যারা শিক্ষার্থী রয়েছেন, তাদের মধ্যে অধিকাংশই আমাদের থেকে টিউটোরিয়াল ডিভিডি কেনার পরে ৫-১০ দিনের মধ্যে আমাদের সম্পূর্ণ ডিভিডি টি দেখে শেষ করে ফেলে এবং ডিভিডি দেখা শেষ হলেই তারা মনে করে থাকে যে, কাজ শিখে ফেলেছি, এবার শুধু বিড করব আর কাজ করব এবং মাস শেষে হাজার হাজার ডলার গুনব। কিন্তু অবশেষে ফল হয় শূন্য। না জানার কারনে ফ্রীল্যান্সিং মার্কেটে কাজই পায় না। আর তখন, সকল দোষ হয় আমাদের,তখন তারা বলে থাকে, আমাদের ডিভিডি দেখে কিছুই শিখতে পারে নাই, অনলাইনে কাজ করা যায় না, এখানে কাজ পাওয়া যায় না, এটা ভূয়া এই ধরনের আরও অনেক কিছু। তবে আমাদের যারা ফ্রীল্যান্সিং শিখিয়ে থাকি তাদের জন্য এটা সান্তনার যে, এটা শুধু আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্যই নয়, দেশের সকল ফ্রীল্যান্সিং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কপালেই এই ধরনের অপবাদ জোটে।

নতুনদের মধ্যে থাকা আরও একটু ভয়াবহ সমস্যা হচ্ছে,কোন সমস্যা হলে সেটার উত্তর নিজে নিজে না খোজার চেস্টা করা। আমাদের একটি সহজ অভ্যাস রয়েছে, যেখানে আমরা দুর্বল পাই, সেখানেই আঘাত করতে পছন্দ করি। কোন একজন ভাল শিক্ষক পেয়েছি কিনা, কোন ছোট খাট সমস্যা হলেও তার কাছেই জিজ্ঞেস করি। কারন, তিনি তো হেল্প করেন। কিন্তু এমনটা করার কারনেই আমরা কিছু শিখতে পারি না। নিজের সমস্যার সমাধান যদি নিজে বের করার মানসিকতা তৈরি না হয় তাহলে কোন দিনই উপরে উঠা সম্ভব নয়। আর কারন শরণাপন্ন কেবল তখনি হবেন যখন আপনি আপনার সমস্যার সমাধান অনেক চেস্টার পরেও পাবেন না। গুগলকে ব্যবহার করতে শিখুন সমস্যা সমাধানের জন্য, দেখবেন জীবন বদলে যাবে।

এইগুলা গেল অনেক বেসিক লেভেল, এইবার চলুন দেখি যারা বিড করে যাচ্ছেন কিন্তু কাজ পাচ্ছেন না কেন?

ফ্রীল্যান্স মার্কেটপ্লেসে ঢোকার আগে প্রথম শর্ত হচ্ছে, আপনাকে দক্ষ হতে হবে। আপনি যে সেক্টরেই কাজ করুন না কেন, সেই সেক্টরে মিনিমাম ৫ টি সফল প্রোজেক্ট সম্পন্ন করেই তবে ফ্রীল্যান্সিং মার্কেটে কাজ করার চিন্তা করবেন। এখন আপনি জিজ্ঞেস করতে পারেন, নতুন অবস্থায় ৫ টি প্রজেক্ট করার জন্য কাজ পাব কোথায়? এটার ও ব্যবস্থা আছে, আপনি লোকাল কারও কাজ করুন, অথবা নিজে নিজেই কয়েকটি প্রোজেক্ট বানিয়ে সেটাতে কাজ করুন। যেমন ধরুন- আপনি ওয়েব ডিজাইন শিখবেন, তাহলে আগে ৫টি ওয়েব সাইট তৈরি করুন, কারন এই ৫ টি প্রোজেক্ট আপনাকে মার্কেটপ্লেসে কাজ পেতে সাহায্য করবে।

এবার আসা যাক বিড কিভাবে করবেন সেটার উপর?

মার্কেট প্লেসে কাজ পাওয়ার প্রধান শর্ত হচ্ছে একটু সাজানো গোছানো ছোট্ট এবং চমৎকার কভার লেটার। কারন, আপনি যখন কোন কাজে বিড করবেন তখন ক্লাইন্ট সর্বপ্রথম আপনার বিডের কভার লেটার টাই দেখবেন। আর তাই কভার লেটার হওয়া উচিত মান সম্মত। এখন, এখানেও আমাদের সমস্যা আছে। আমাকে এই পর্যন্ত অনেকেই ইমেইল এবং ফেসবুকে মেসেজ পাঠিয়েছেন, কভার লেটার এর নমুনার জন্য। কিন্তু ভাই, আমি আপনাকে বলছি, এই ধরনের মুখস্থ কভার লেটার লিখে কাজ পাবেন না। সেই দিন অনেক আগেই শেষ হয়ে গিয়েছে। কভার লেটার অবশ্যই নিজের হাতে লিখবেন এবং কভার লেটারে শুধু তাই লিখবেন যেটা ক্লাইন্ট জানতে চেয়েছেন। কারন, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায় ক্লাইন্ট তার কাজের সাথে কোন প্রশ্ন যুক্ত করে দেয়, যেমন-
  1. What part of this project most appeal to you?
  1. What question do you have about the project?
  1. What three things do you plan to implement to make the company’s marketing strategy effective?

এই ধরনের প্রশ্ন দেখে অনেকেই ঘাবড়ে যান, ভেবেই পান না কি লিখবেন এর উত্তরে? কিন্তু আপনি কি জানেন, কাজ পাওয়ার জন্য এই প্রশ্ন গুলোই সবচাইতে বড় সহায়ক, এগুলোই হচ্ছে লক্ষভেদের উপায়? এই গুলোর উত্তর যদি সঠিকভাবে দিতে পারেন তাহলে আপনার কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা ৯৫% বেড়ে যায়। কারন এই প্রশ্ন গুলোর মাধ্যমে আপনি ক্লাইন্টকে ওই প্রজেক্ট সম্পর্কে আপনার পরিকল্পনার কথা জানাতে পারেন। আর হ্যা, অবশ্যই অবশ্যই কভার লেটার এবং প্রশ্ন গুলোর উত্তর এমনভাবে দেয়ার চেস্টা করবেন যাতে করে ক্লাইন্ট সেটাতে ইন্টারেস্ট ফিল করে, ক্লাইন্টের মনে যেন এমন ভাবনা আসে যে হ্যা, আপনি কিছু জানেন। আপনাকে দিয়ে কাজটা হবে। যদি ক্লাইন্টের মনে এমন ভাবনা জাগাতে পারেন তাহলেই আপনি সার্থক। সব সময় মাথায় রাখবেন, এমন কাজে বিড করবেন না যেটা আপনি পারেন না, শুধুমাত্র সেই কাজ গুলোতেই বিড করবেন যেটা আপনি পারবেন এবং আপনি সম্পূর্ণ আত্মবিশ্বাসী। আর ক্লাইন্টের সাথে সব সময় ওপেন ভাবে কথা বলুন, এত স্যার স্যার করার কিছুই নেই, এখানে আপনার আর ক্লাইন্টের সম্পর্ক হচ্ছে টাকার সম্পর্ক, সেখানে এত স্যার বলে ডাকার কিছু নেই, আপনি কাজ পারেন ব্যাস করে দিবেন। তাই ক্ল্যাইন্টের সাথে ফ্রেন্ডলী এবং ভাল সম্পর্ক স্থাপনের চেস্টা করুন। শুরুতেই ক্লাইন্টকে বোঝানোর চেস্টা করুন আপনিই তার কাজের জন্য পারফেক্ট এবং আপনি ক্লাইন্টের কাজ সঠিক সময় করে দিতে পারবেন।

আরও একটি সমস্যাঃ

আমাদের আরও একটি সমস্যা হচ্ছে, ধৈর্য্য না থাকা। আমরা মনে করি ২-৩ টা বিড করেই কাজ পেয়ে যাব। কিন্তু আপনি কি নিজেকে একবার জিজ্ঞেস করে দেখেছেন, ক্লাইন্ট যে আপনাকে কাজটি দিবে তার জন্য আপনি নিজে কতটা পারফেক্ট? আমাকে কিছুদিন আগেই এক ব্যক্তি প্রশ্ন করেছি, ভাইয়া আমি ১ মাস ধরে বিড করে যাচ্ছি কিন্তু কাজ পাচ্ছি না। তখন আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম আপনি কি কাজ শিখেছেন? উনি বলল, আমি আপনার এসইও ডিভিডি দেখে কাজ শিখেছি। আমি জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কি প্র্যাক্টিস করেছেন? তিনি বললেন হ্যা করেছি। আমি বললাম কোন ওয়েবসাইটে প্র্যাক্টিস করেছেন? তিনি বলল, আপনার ভিডিও তো দেখেছি, সেখানের সব ই তো সোজা, আমি সব বুঝেছি, আর ক্লাইন্ট কে দেখানোর জন্য আপনি তো কিছু ওয়ার্কপ্রুফ তৈরি করে দেখিয়েছেন ই, ক্লাইন্ট চাইলে সেটা দিয়ে দিব।

এবার বুঝুন, টিউটোরিয়াল দেখে সব বুঝেছেন আর তাই তিনি প্র্যাক্টিস ও করেন নাই, এমনকি ক্লাইন্ট আগের কাজের অভিজ্ঞতা জানতে চাইলে আমাদের এসইও বাংলা টিউটোরিয়াল এ যে কাজের নমুনা আছে সেটা দিয়ে দিবেন, এমন অবস্থায় উনি নিজেকে ভাবছেন উনি এসইও শিখে গেছেন এবং কাজ করে মাসে হাজার হাজার টাকা আয় করবেন? আপনার কি মনে হয়, ক্লাইন্টরা এতই কি বোকা?

আমাদের আরও কিছু সমস্যাঃ

আমাদের আরও সমস্যা হচ্ছে, শোনা কথায় বিশ্বাস করা কিন্তু নিজে যাচাই না করা। আমরা যার মুখ থেকে যেটা শুনি সেটাই বিশ্বাস করি, কেউ হয়ত বলল যে অনলাইনে অমুক কাজ বিড করলেই পাওয়া যায়, তমুক কাজের ভাত নেই, তমুক কাজ বন্ধ হয়ে গেছে, এই ধরনের আজে বাজে কথায় আমরা সহজেই বিশ্বাস করি কিন্তু বাস্তবতা যাচাই করি না। এর প্রধান কারন হচ্ছে, আমরা কস্ট করতে পছন্দ করি না, লোকের মুখ থেকে শোনা বিভিন্ন কথার মধ্যে যেটা সবচাইতে সহজ এবং সহজে টাকা কামানো যাবে আমরা সেটাই করতে পছন্দ করি। কিন্তু মনে রাখবেন, সহজ বলতে কোন কথা নেই, আবার কঠিন বলতেও কোন কথা নেই, একটাই কথা- সেটা হচ্ছে পরিশ্রম। পরিশ্রম ছাড়া আপনার বা আমার চেহারাখানি যতই সুন্দর হোক না কেন, কেউ এক টাকাও দিয়ে যাবে না।

আশা করি আজকের কথা গুলো কিছুটা হলেও বুঝতে পেরেছেন। সব কথা বড় কথা, দুই একবার চেস্টা করে ব্যর্থ হয়ে গেলেন মানে এই নয় যে আপনি পারবেন না। যদি পরিশ্রম করার মানসিকতা না থাকে তাহলে কোন দিনই সফল হতে পারবেন না। পরিশ্রম করলে সবই সম্ভব। আমি ওইটা পারি না, সেইটা বুঝি না, এই সমস্যা, সেই সমস্যা এই গুলা সব ফালতু বিষয়, এই গুলা যতদিন বাদ দিতে না পারবেন ততদিন কিচ্ছু হবে না। কেউই সব কিছু পেরে দুনিয়াতে আসে না, বিল গেটস তার মায়ের পেটে বসে সফটওয়্যার বানানো শেখে নাই, তাকে পরিশ্রম করেই শিখতে হয়েছে, এবং তিনি পেরেছেন বলেই আজ বিশ্বের সেরা ধনী। অনেকেই তো বলে থাকে সৎ পথে ধনী হওয়া যায় না, কিন্তু তাহলে বিল গেটস তো সঠিক পথেই পৃথিবীর সেরা ধনী হলেন কিভাবে? তিনি আর কারো টাকা চুরি করেন নাই, এটা সম্ভব হয়েছে তার পরিশ্রম এর জন্য। আর তাই আপনিও যদি কিছু করতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকেও পরিশ্রম করতে হবে। এর বিকল্প কিছুই নেই। যদি কমপক্ষে ৬ মাস নিজেকে পরিশ্রম করানোর মত সাহস এবং সংযম করতে পারেন তাহলেই সফল হতে পারবেন অথবা, দুনিয়া এগিয়ে যাবে কিন্তু আপনি পেছনেই পড়ে থাকবেন আর শুধু ভাববেন অমুক ভাই ফ্রীল্যান্সিং করে মাসে ৫ লাখ টাকা আয় করে কিন্তু আমি পারিনা। এই ভাবনার শেষ কোনদিনই হবে না। টাকার জন্য না শিখে জ্ঞানের জন্য শিখুন, শেখার সময় টাকার কথা ভুলে যান, ৬ মাস পর দেখবেন টাকা আপনার পেছনে দৌড়াবে। শুধু এটা বিশ্বাস করুন- “আমি পারব এবং অবশ্যই পারব”, আমরাও চাই যেন আমরা পারি, পারতেই হবে, লাল সবুজের দেশ বেকারমুক্ত, কম্পিউটার স্বাক্ষর হবেই হবে ইনশাআল্লাহ। চলুন তাহলে আজ থেকেই শুরু করা যাক ? . . .